লিজা জান্নাত
আজ সাড়ে তিন মাস হয়েছে নিসাকে আমি আমার ফ্লাটে এনে রেখেছি। প্রথমদিকে তো সবকিছু ঠিকই ছিলো হঠাৎ একরাতে সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো। এলোমেলো হয়ে গেলো আমার জীবন আর এলোমেলো হয়ে গেলো নিষ্পাপ নিসার জীবন। আচ্ছা নিসা কি সুস্থ হলে আমাকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে? এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আরজিনা খালার ডাক কর্ণকুহরে আসায় ভাবনার রেশ কাঁটে শ্রেয়ানের । তারপর যা শুনতে পেলো,
"শ্রেয়ান বাবা, শ্রেয়ান বাবা, নিসা মামুনিকে কোথাও খুজে পাচ্ছি না। "
"সারাফ্লাট খুজে দেখেছো তো খালা?কোথায় গেলো মেয়েটা একা একা? "
"জানি না বাবা সব রুম তন্ন তন্ন করে খুজেছি কিন্তু কোথাও পাইনি। কাল যে শপিং ব্যাগটা এনেছিলে সেটা দেখলাম ফ্লোরে পড়ে আছে। ভেতরের জিনিসটা নেই। "
"ওহ, শিট। আমার ই ভুল হয়েছে ওর উপর কড়া নজর রাখা উচিত ছিলো। আমি পুরো বিল্ডিংটায় খুজছি তুমি এখানে থাকো।"
এরপর শ্রেয়ান হন্তদন্ত হয়ে পুরো বিল্ডিং খোজে কিন্তু কোথাও নিসার দেখা মেলে না। তারপর বিল্ডিং এর আসে পাশে নিসাকে খোজা শুরু করে। তারপর খুঁজতে খুঁজতে কিছুদুরে একটা খেলার মাঠে চলে আসে। খেলার মাঠে আসার পরেই তার কানে বেজে ওঠে নিষ্পাপ মেয়েটির হাসির শব্দ ও হাতে তালি দেওয়ার শব্দ। দ্রুততার সাথে শব্দ লক্ষ্য করে তাকিয়ে দেখে নিসা হাতি তালি দিচ্ছে আর সমান তালে লাফাচ্ছে। শ্রেয়ান দ্রুত নিসার কাছে চলে যায় আর নিসাকে জড়িয়ে ধরে সারা মুখে পাগলের মতো চুমু খেতে থাকে। তারপর কিছুক্ষণ পর নিশার শব্দ কানে আসতেই থেমে যায় আর বলে,
"তুমি একা একা এখানে কেনো এসেছো? আমাকে বলতে পারতে আমি নিয়ে আসতাম। কেনো এসেছো তুমি? একেতো তুমি অসুস্থ। তারপরও আমাকে চিন্তায় ফেলতে ভালো লাগে তোমার? হুম, ভালো লাগে? কি হলো উত্তর দিচ্ছো না কেনো? "
" বন্ধু দেখো ওরা কতো সুন্দর খেলা খেলছে। আমারও খেলা খেলতে ইচ্ছে করছে। আমিও খেলা খেলব। "
শ্রেয়ান বুঝলো এতোক্ষণ নিসা তার কথা কিছুই শেনোনি। শ্রেয়ান আবার নিসাকে জড়িয়ে ধরে বললো,
"খেলবো তো, আমরাও খেলবো। আমি খেলবো তুমি খেলবে আর সাথে আমাদের ছোট্ট বাবুও খেলবে। "
“সত্যি? বাবু খেলবে আমাদের সাথে?”
"হুম খেলবে কিন্তু তার আগেতো তোমাকে তোমার আর আমাদের বাবুর যত্ন নিতে হবে তা নাহলে বাবু খেলবে কি করে?"
"যত্ন নিবো তো, আমি বাবুর অনেক যত্ন নেবো। "
"তাহলে এখন বাড়ি চলো আর আমাকে কথা দাও আর কখনো বাড়ির বাইরে আসবে না। কথা দাও এবার থেকে আসার ইচ্ছে করলে আমাকে বলবে। "
" আমি তো একা আসিনি বন্ধু, আমাকেতো রুপা নিয়ে আসলো, বললো অনেক মজা হবে। বললো তুমি বোঝার আগে আমাকে বাড়ি নিয়ে যাবে। কিন্তু রুপা যে এখন কোথায় গেলো?” মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল নিসা।
শ্রেয়ান নিসার হাতটা মাথা থেকে নামিয়ে ধরে বলবো,
"এখন বাড়ি চলো। আমার কথা আর কখনো অমান্য করবে না। তাহলে বাবু রাগ করবে। আর তোমার সাথে কথা বলবে না।বুঝেছো? "
নিসা “ হ্যা” বোধক মাথা নাড়ায়।
তারপর তারা দুজন গন্তব্যের দিকে হাঁটা ধরে। কেউ তাদের দিকে মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তো কেউ আদিক্ষেতা বলে চালিয়ে দিচ্ছে তো কেউ তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করছে কিন্তু শ্রেয়ান সেদিকে পাত্তা দেয় না। সেতো নিসার সাথে একটা সুখের সংসার গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানে সে থাকবে, নিসা থাকবে আর তাদের ছোট্ট বাবু থাকবে।
কিন্তু প্রকৃতির এই অগোছালো নিয়ম কি মেনে নেবে তাদের? সুখে থাকতে দেবে তো তাদের?
